হরমুজ প্রণালি পারাপারে ইরানের ছাড় পাওয়ায় তেলের গ্রাহকদের কাছে পরিবহন পরিকল্পনা চেয়েছে ইরাক।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা সোমো তাদের গ্রাহকদের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের সময়সূচি জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমোর একটি নথির বরাত দিয়ে জানায়, তেল রপ্তানির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইরাক থেকে তেল আমদানি কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তাদের উত্তোলন পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
নথিতে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে, আপনাদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করছি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তোলন সময়সূচি জমা দেওয়ার জন্য, যাতে সময়মতো উত্তোলন কার্যক্রম প্রক্রিয়াকরণ করা যায়। এর মধ্যে জাহাজ মনোনয়ন এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত তেলের পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
ইরান সরকার তেল পরিবহন কোম্পানিগুলোকে ফের আশ্বস্ত করে জানায়, ‘আমরা নিশ্চিত করছি- বসরা তেল টার্মিনালসহ সব লোডিং টার্মিনাল এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণরূপে সচল রয়েছে। কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই সব চুক্তিভিত্তিক উত্তোলন কার্যক্রম সম্পাদন করতে সোমোর পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে।’
ইরানে বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে ভুক্তভোগী হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ইরাক। দেশটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার জেরে তারাও ইরানি পালটা হামলার শিকার হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে হামলার ঝুঁকি থাকায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকের তেল উৎপাদন কমে দৈনিক প্রায় আট লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। তেল রপ্তানি আবার শুরু হলে উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


