চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরার কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ দেবহাটা উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আবদুল্লাহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চাকরিচ্যুত সাবেক সদস্য ও স্থানীয় প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে।
এর আগে, গত ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করেন আলমগীর হোসেন ওরফে সাহেব আলী। এ মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে এক নম্বর, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুনকে দুই নম্বর এবং ভুক্তভোগীর সাবেক স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে (মৌসুমি) তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
যদিও পর্নোগ্রাফি, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনটেন্ট তৈরি করতেন মামুন নিজেই। এজন্য বেশ আলোচিত ছিলেন তিনি।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মৌসুমিকে তালাক দেন আলমগীর হোসেন সাহেব আলী। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই নারীর যোগাযোগ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ভিডিও ও ছবি আগে থেকেই সংগ্রহে রেখেছিলেন তার সাবেক স্ত্রী। সেই ভিডিও সংগ্রহ করে আসামিরা গত ১৫ অক্টোবর ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।
এরপর গত ২০ অক্টোবর আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতা হলেও আসামিরা ব্লাকমেইল অব্যাহত রাখেন। পরে গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর মামুনের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাদী সাহেব আলী জানান, সামাজিকভাবে তাকে হেয়-প্রতিপন্ন করা এবং তার মানহানির উদ্দেশ্যে এই অপরাধ করা হয়েছে। নিরুপায় হয়ে তিনি ডিজিটাল প্রমাণসহ সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, এ মামলায় এরই মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


