সংসদে ফিরেই আবেগঘন বক্তব্য মির্জা আব্বাসের, চাইলেন দোয়া

সংসদে ফিরেই আবেগঘন বক্তব্য মির্জা আব্বাসের, চাইলেন দোয়া
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা আব্বাস। ছবি: ভিডিও থেকে
Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। জীবনের বাকি সময়টুকু যেন দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে আসরের নামাজের বিরতির পর সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে। জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মানুষের জন্য কাজ করতে পারি—সবার কাছে সেই দোয়া চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দোয়া করবেন—আমি যাতে বাকি সময়টুকু বেঁচে থাকি দেশ এবং জাতির জন্য। দেশের জন্য যেন কিছু করতে পারি।’

বক্তব্য দেওয়ার সময় কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। এ সময় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অধিকাংশ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। ট্রেজারি বেঞ্চের প্রথম সারিতে হুইলচেয়ারে বসা মির্জা আব্বাসকে দেখে স্পিকার তাকে শুভেচ্ছা জানান।

মির্জা আব্বাসের সংসদে উপস্থিতির কথা ঘোষণা করে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে এসেছেন। আপনাকে এই সংসদে স্বাগত জানাচ্ছি।’

এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে স্বাগত জানান। হুইলচেয়ারে বসা মির্জা আব্বাস ডান হাত তুলে সালাম দিয়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে বুধবার রাতে দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। গত ১১ মার্চ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তাকে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকতে হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি কোনো অধিবেশনেই উপস্থিত হতে পারেননি।

আসরের নামাজের বিরতির পর সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন। হুইলচেয়ারে থাকার কারণে নিজের নির্ধারিত আসনে যেতে না পারায় প্রথম সারিতে বিএনপির সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমানের মাইক থেকে বক্তব্য দেন তিনি।

আরও পড়ুন

বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা আব্বাস।

আজকের দিনটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে।’

চিকিৎসার সময় যারা তার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন ও পাশে থেকেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। চিকিৎসা শেষে প্রথমবার সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়াও আদায় করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন।

স্পিকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদের স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনার এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা আমি কোনোদিন ভুলব না। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়; এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

সংসদে ফিরে রাজনীতি ও সংসদীয় গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকে সংসদে ফিরে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে, রাজনীতি শুধু মতের পার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন, যাতে জীবনের অবশিষ্ট সময় আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা, শুভকামনা ও দোয়া আমাকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে সাহস জুগিয়েছে।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ দান করুন।’

তিনি দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও কর্মসূচি করেছে। তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদের বিরতির সময়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজের চেম্বারেও কিছু সময় কাটান মির্জা আব্বাস। এ সময় সংসদ সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন।

আরও পড়ুন>>>

দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর