লোডশেডিংয়ে নাকাল খুলনা, অস্থির ফ্যানের বাজার

লোডশেডিংয়ে নাকাল খুলনা, অস্থির ফ্যানের বাজার
ফ্যানের বাজারে ভিড়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঘন ঘন লোডশেডিং ও ভ্যাপসা গরমে খুলনায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে মানুষ। এই সুযোগে বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে চার্জার ফ্যান, ইউপিএস এবং ইলেকট্রিক লাইটের দাম।

মানভেদে চার্জার লাইটের দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চার্জার ফ্যান ও ইউপিএস বা ব্যাটারির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

গত কয়েকদিন ধরে নগরীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোতে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। দিনে ও রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা কমেনি।

এমন পরিস্থিতিতে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকতে মানুষ চার্জার ফ্যানের দিকে ঝুঁকছে। ফলে ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেড়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর ছোট ও বড় সব ধরনের চার্জার ফ্যানের দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর যে ১২ ইঞ্চি চার্জার ফ্যান ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা চাহিদার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে এসব পণ্য বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেটের বনি ইলেকট্রিকের কর্মচারী মোঃ রাজীব জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চার্জার ফ্যানের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ অনেক কম।

আরও পড়ুন

রাজীবের মতে যেখানে ৫০ হাজার ফ্যানের প্রয়োজন, সেখানে আসছে মাত্র ২ হাজার পিস। এছাড়া আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি দামে পণ্য ছাড়ার কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।

একই মার্কেটের বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ সাগর কাজী জানান, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও চীন থেকে পণ্য আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক দাম বেড়েছে। এছাড়া পণ্যটি হাতবদল হয়ে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

রব শপিং কমপ্লেক্সের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ঢাকার কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে চার্জার ফ্যানের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, এ বছর বিক্রির এমন চাপ আগে কখনও দেখা যায়নি।

হারুন ইলেকট্রনিক্সের মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত এক সপ্তাহে চার্জার ফ্যানের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চাহিদার চাপে অনেক সময় পর্যাপ্ত স্টক রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ক্রেতারা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে। রব শপিং কমপ্লেক্সে আসা ঝুমুর বেগম বলেন, গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি ফ্যান কিনতে এসেছেন। কিন্তু দাম শুনে অবাক হয়েছেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

রূপসা উপজেলার বাসিন্দা এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, বাজারে ক্রেতা বেশি এবং পণ্য কম থাকার সুযোগ নিয়ে দোকানদাররা বেশি দাম রাখছেন।

সার্বিকভাবে তীব্র গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিং খুলনার সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ভোগান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিকল্প পণ্যের এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস ন্যাশনাল
টাইমস ন্যাশনাল

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর