কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ ছয় বছরের শিশু মোহাম্মদ ইউসুফ (বাপ্পি) মারা গেছে।
একই ঘটনায় তার মা তাহেরা বেগম পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ ইউসুফ ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলম ও তাহেরা বেগম দম্পতির ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় রোহিঙ্গা তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হলে পুরো ক্যাম্প এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। কেউ কেউ ১২০ থেকে ২০০ রাউন্ড পর্যন্ত গুলিবর্ষণের কথা বললেও গুলির সঠিক সংখ্যা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গোলাগুলির মধ্যে একই পরিবারের মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শিশু মোহাম্মদ ইউসুফ এবং পেটে গুলিবিদ্ধ তার মা তাহেরা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ইউসুফের মাথা থেকে গুলি বের করতে না পেরে চিকিৎসকরা জরুরিভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
গুলিবিদ্ধদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গোলাগুলিতে একই পরিবারের মা ও ছেলে গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’
জনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারেননি এবং ক্যাম্পের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছেন শিবিরের বাসিন্দারা।
তবে সংঘর্ষে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পরিচয়, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং কত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।


