সাভারে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে মাদ্রাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটি অনুমোদনের আবেদনের অভিযোগে তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার মামলায় এজাহার নামীয় পাঁচজন ও অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ১০/১২জন আসামির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোরে তাদের আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থান অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ (৫০) ও মাদ্রাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, মাদ্রাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার বাসিন্দা গাজী লিটন ও বিপ্লব।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের লক্ষ্যে মাদ্রাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়। ওই আবেদনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল ও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করে তা মূল দলিল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালানো হয়। পরে সেই জালিয়াতিযুক্ত আবেদন ও কমিটির তালিকাটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জানান এই স্বাক্ষরটি তার নয় এবং জাল। পরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইমি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আশুলিয়া থানার এসআই মেরাজুল ইসলাম সোহাগ অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ ও উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদকে গ্রেপ্তার করেন।
আসামিদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ এজাহারভুক্ত দুজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে ।


