সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাটির রায় আবারও পিছিয়েছে।
রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারিত তালিকা থেকে মামলাটি সরিয়ে অধিকতর যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য নতুন তারিখ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি রায়ের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে আগামী ৬ অক্টোবর অধিকতর যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বিচারক নিজ উদ্যোগেই মামলাটি রায়ের তালিকা থেকে তুলে নিয়ে পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।
আসামি সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম মামলার শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
মামলার বিচার চলাকালে আসামি সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ধসে পড়ে রানা প্লাজা। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন প্রাণ হারান। আহত হন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
ভবন ধসের পর এর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি অনুসন্ধানে নামে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম।
ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় মামলার শুরুতে তাকে আসামি করা হয়নি। তার বাবা-মাসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ‘রানা প্লাজা’ নামে সাততলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ভবনটির ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।
এ ছাড়া ভবনটি নির্মাণের আগে শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহারের কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ২১ মে মামলাটিতে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই সময়ে আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিচার চলাকালে মামলার ২০ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায় পেরিয়ে রায়ের জন্য আসে। তবে মঙ্গলবার রায় না দিয়ে আদালত পুনরায় অধিকতর যুক্তিতর্কের জন্য ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করলেন।


