‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, পড়াশোনা বিচ্ছিন্নতা এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের কারণ’

‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, পড়াশোনা বিচ্ছিন্নতা এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের কারণ’
ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের জন্য ২০২৪ পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিচ্ছিন্নতাকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। পাশাপাশি তিনি দায়ী করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল পরিবেশ, শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব হওয়ার বিষয়টিকেও।

টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীলতা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মব কালচার, শিক্ষকদের সঙ্গে দূরত্ব এবং পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ সবকিছুই ফলাফলে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

আলী জিন্নাহ বলেন, আগের সময়ে পরীক্ষার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে ফল প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তার মতে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করবে, পরীক্ষায় অংশ নেবে এবং উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল পাবে—এটাই হওয়া উচিত পরীক্ষাব্যবস্থা। শুধু পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখে এলেই ভালো ফল কিংবা জিপিএ-৫ পাওয়ার সুযোগ থাকার দিন শেষ। যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় ভালো লিখলেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব, এই বার্তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বর্তমান পরিস্থিতিকে পরিবর্তনকালীন সময় হিসেবে উল্লেখ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে, যথাযথ পড়াশোনা ছাড়া ভালো ফল অর্জনের সুযোগ নেই। এই উপলব্ধি তৈরি হলে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফলে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

তবে ফল বিপর্যয়ের জন্য শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা কিংবা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তনকে দায়ী করছেন না এই শিক্ষাবিদ। তার মতে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মান ও সুযোগ-সুবিধা সমান নয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক অবস্থানও তাদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করে।

আলী জিন্নাহ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিখনের মান সব জায়গায় এক নয়, সুযোগ-সুবিধাও সব জায়গায় এক নয়। আবার ছেলেমেয়েদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সবাই হয়তো সমানভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেনি। এগুলোও ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad