ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা একটি চালানে মিলেছে একটি বিএমডব্লিউ রেসিং কার, বিএমডব্লিউ ৭৪০আই-এর সামনের অংশ এবং পাঁচটি অর্ধেক কাটা ইসুজু ট্রাক।
ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের মিল না থাকায় চালানটি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার এম/এস আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আনে। কাগজপত্রে এই চালানে ব্যবহৃত ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলিসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ থাকার কথা বলা হয়েছিল।
তবে চালানটি পরীক্ষা করে কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে থাকা পণ্যের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক সাগর সেনও চালানটি জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চালানে পাওয়া যায় বিএমডব্লিউ রেসিং কার
চালানটি খুলে তল্লাশি করার সময় সম্পূর্ণ খণ্ডিত অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ রেসিং কার পাওয়া যায়।
প্রাথমিকভাবে গাড়িটিকে এসড্রাইভ ২৩আই মডেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় দুই হাজার ৫০০ সিসি।
তবে গাড়িটির সঠিক মডেল, উৎপাদনের বছর, চ্যাসিস নম্বর ও যান শনাক্তকরণ নম্বর এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর এসব তথ্য নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
গাড়িটিকে কেন ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করছে কাস্টমস। কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি বিধিনিষেধ বা শুল্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএমডব্লিউ ৭৪০আই-এর সামনের অংশও উদ্ধার
একই চালানে পাওয়া গেছে ২০১৬ সালের একটি বিএমডব্লিউ ৭৪০আই-এর সামনের অর্ধাংশ। গাড়িটির ইঞ্জিনের ক্ষমতা প্রায় তিন হাজার সিসি।
তবে গাড়িটির শুধু সামনের অংশ কেন চালানে ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, গাড়িটির বাকি অংশ অন্য কোনো চালানে আনা হয়েছিল কি না। অথবা দুই অংশ আলাদাভাবে দেশে এনে পরে গাড়িটি জোড়া লাগানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পাঁচটি অর্ধকাটা ইসুজু ট্রাক
চালানটিতে পাঁচটি অর্ধকাটা ইসুজু ট্রাকও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানান, ট্রাকগুলোর কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ রাখা ছিল। এর পাশাপাশি চালান থেকে আরও বেশ কিছু ব্যবহৃত মোটরযানের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস এখন খতিয়ে দেখছে, পণ্যের ভুল ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না।
এ ছাড়া গাড়ির বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা চালানে এনে পরে বাংলাদেশে জোড়া লাগানোর কোনো ব্যবস্থা চলছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
আগের চালানও খতিয়ে দেখা হবে
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো বিএমডব্লিউ ৭৪০আই-এর বাকি অংশের সন্ধান করা। একই আমদানিকারকের মাধ্যমে এর আগে অন্য কোনো চালানে একই ধরনের গাড়ি বা যন্ত্রাংশ আনা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখবেন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও যন্ত্রাংশের চ্যাসিস নম্বর, যান শনাক্তকরণ নম্বর, ইঞ্জিনের তথ্য এবং প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে এসব পণ্যের জন্য প্রযোজ্য আমদানি বিধিমালা অনুযায়ী কত শুল্ক ও কর পরিশোধ করার কথা ছিল, সেটিও নির্ধারণ করা হচ্ছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষ হলে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: যন্ত্রাংশের নামে কনটেইনারে বিলাসবহুল গাড়ির অংশ, বন্দরে আটক


