ফিফা বিশ্বকাপে ৩৩০ টিকিট পেল বাংলাদেশ

ফিফা বিশ্বকাপে ৩৩০ টিকিট পেল বাংলাদেশ
ছবি: ফিফা
Advertisement
Advertisement

বিশ্বকাপ ফুটবল আসতে এখনও মাস পাঁচেক বাকি। কিন্তু ঢাকার মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনের করিডোরগুলোতে কান পাতলে এখনই পাওয়া যাচ্ছে উত্তর আমেরিকার সেই ফুটবল মহোৎসবের শিহরণ। মরুঝড়ের কাতার বিশ্বকাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিশন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। আর সেই গ্যালারিতে লাল-সবুজের দর্শকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বড় ঘোষণা দিলো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।

শনিবার বিকেলে বাফুফে ভবনে জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান। তিনি জানান, বরাবরের মতো এবারও সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ৩৩০টি টিকিট বরাদ্দ পেয়েছে। ইমরুল হাসান বলেন, ‘নন প্লেয়িং কান্ট্রি হিসেবে আমাদের ৩৩০টির বেশি টিকিট পাওয়ার সুযোগ নেই। আগামীকাল থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকিটের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন ফরমের মূল্য ৫০০ টাকা ও নির্দিষ্ট টিকিটের দাম পরিশোধ করতে হবে।’

বাফুফে জানিয়েছে, মোট ৬টি ক্যাটাগরির ব্যক্তিরা এই টিকিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সদস্য সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, ফুটবল সমর্থক, জাতীয় দলের বর্তমান ও প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সাংবাদিকরা। একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ দুটি টিকিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের ভিড় যদি ৩৩০ ছাড়িয়ে যায়, তবে সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে গঠিত বিশেষ কমিটি।

টিকিটের আর্থিক ও প্রক্রিয়াগত দিক নিয়ে বাফুফে বেশ কিছু কড়া নিয়ম জারি করেছে। আবেদনকারীদের মতিঝিলের ইউসিবি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে বাফুফের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে হবে। তবে ফেডারেশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, টিকিট প্রাপ্তি মানেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। ভিসা প্রাপ্তি বা বাতিলের দায়ভার বাফুফে গ্রহণ করবে না। এ ছাড়া বরাদ্দকৃত টিকিট হস্তান্তর বা কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা টিকিট পাবেন না, তাদের টাকা ব্যাংক ট্রান্সফার বা চেকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হবে।

বরাদ্দকৃত ৩৩০টি টিকিটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ থাকছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ম্যাচগুলোতে। গ্রুপ পর্বের ১৩টি ম্যাচের জন্য ১৬২টি টিকিট রাখা হয়েছে, যেখানে ব্রাজিল বনাম মরক্কো (১৩ জুন) বা আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়া (২২ জুন) এর মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতে ২০টি করে টিকিট বরাদ্দ আছে। এ ছাড়া নকআউট পর্ব, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের জন্যও রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট কোটা। তবে স্বপ্নের ফাইনাল ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখার জন্য বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ১০টি টিকিট।

খরচের হিসাবটা অবশ্য বেশ চড়া। গ্রুপ পর্বে ক্যাটাগরি-৩ এর একটি টিকিটের দাম ৩৪ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে শুরু হলেও ফাইনাল ম্যাচের ক্যাটাগরি-১ টিকিটের মূল্য গিয়ে ঠেকেছে ১১ লাখ ৩৯ হাজার ২৫০ টাকায়। এত চড়া দাম আর ভিসার অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও স্বপ্নের বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন দেশের পাগলপ্রায় ফুটবলভক্তরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর