নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে ট্রেন আটকে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে দারোয়ানী টেক্সটাইল রেলস্টেশন এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়। এতে রকেট মেইল ট্রেনটি দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকায় আটকা পড়ে। অন্যদিকে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস নীলফামারী রেলস্টেশনে আটকে যায়।

অবরোধকারীদের দাবি, দারোয়ানী টেক্সটাইল ও খয়রাতনগর রেলস্টেশনে নিয়মিত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দূরদূরান্তে পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচও গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দারোয়ানী টেক্সটাইল ও উত্তরা ইপিজেড এলাকা নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আশপাশের ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াতের জন্য রেলপথের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কাছের স্টেশনগুলোতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় তাদের অন্য স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এ কারণে দারোয়ানী টেক্সটাইল ও খয়রাতনগর রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ছাড়াও আশপাশের ইউনিয়নের সাধারণ যাত্রীরা এ স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। অনেক ব্যবসায়ীও এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল নিয়ে যান। তাই আমাদের প্রধান দাবি, এখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে। এতে আমাদের চলাচলের সুবিধা হবে।’
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার। তারা অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কোন কোন ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা যায়, তা বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইউএনও মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এখানে কোন কোন ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া সম্ভব, তা বিবেচনা করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে সব লোকাল, মেইল ও আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে আন্দোলনে নামেন এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। সেদিন তারা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন ও রেললাইন অবরোধ করেন। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাকিব হাসানের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা।


