সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে থানায় নেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনায় এবার তার বাবা, মা, ছোট বোন ও চার বন্ধুসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার মধ্যরাতে সিলেটের বেসরকারি কুইন্স হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রিন্স। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী প্রিন্সের ছোট বোন ছাড়া বাকিদের রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, প্রিন্সকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং গ্রেপ্তার করা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী, মা শামী আক্তার পলি, ছোট বোন সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা এবং তার চার বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ, দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ, ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি ও সিলেটের ভাদেরশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া এলাকার বাসা থেকে প্রিন্সকে থানায় ডেকে নেন ওসি। তার বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর দাবি, ছেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা থাকায় বাড়িতে এসেছিলেন তিনি।
প্রিন্সের বাবার ভাষ্য, ওই রাতে থানার এসআই জাকারিয়া তাদের বাসায় গিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রিন্সকে নিয়ে যান। কথা শেষে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর ফোনে জানতে পারেন, প্রিন্স সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে ছেলেকে অচেতন ও সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিলেটে নেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে প্রিন্সকে নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ওসি রতন শেখ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রিন্স আগে থেকেই হাঁপানি রোগে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। থানাহাজতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি পড়ে যান।
পুলিশের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রিন্সকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে থানাহাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় পরিবারের সদস্য ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


