ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে ৩ ধাপের কৌশল সরকারের

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে ৩ ধাপের কৌশল সরকারের
ছবি: ভিডিও থেকে
Advertisement
Advertisement

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, শুধু মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি নয়, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মোবাশ্বরে আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠনের জন্য সরকার ‘তিন ধাপের কৌশল’ নিয়েছে। এর প্রথম ধাপে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা, দ্বিতীয় ধাপে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তৃতীয় ধাপে দ্রুততর উন্নয়নের জন্য পুনর্গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতির অবনতির ধারা রোধ করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে অর্থনীতির অবনতির ধারা রোধ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থা, সরকারি বিনিয়োগ, ব্যাংক ও আর্থিক খাত, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ, কৃষি, জ্বালানি ও অবকাঠামোর সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ করা হবে।

তৃতীয় ধাপে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক সংযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

তিনি জানান, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের ঘরে নামিয়ে আনা এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোট বিনিয়োগকে মোট দেশজ উৎপাদনের ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে বেসরকারি বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা সহজীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়িক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সম্ভাবনাময় ১৯টি খাত চিহ্নিত করে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পুঁজিবাজার, করপোরেট বন্ড এবং বিকল্প দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন অর্থায়নে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার করা হচ্ছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে রাজস্ব-মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে ১১ শতাংশে এবং কর-মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শুধু সরকারি বিনিয়োগ নয়, বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করার নীতিকে সামনে রেখে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সুশাসন, দক্ষ মানবসম্পদ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং শক্তিশালী আর্থিক খাত নিশ্চিত করা গেলে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য কেবল একটি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়; এটি উৎপাদন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমানের টেকসই উন্নয়নের সমন্বিত লক্ষ্য।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর