আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আসামিদের বদলে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হচ্ছে—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন দাবিকে অসত্য আখ্যা দিয়েছে প্রসিকিউশন।
রোববার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এ কথা বলেন।
এর আগে গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ট্রাইব্যুনাল এমন সব মামলার বিচার করছে যেখানে শুধু পলাতক আসামিদের সাজা দেওয়া হচ্ছে, যাদের সাজা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
গোলাম পরওয়ারের এই মন্তব্য আদালত অবমাননা কি না—এমন প্রশ্নে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, বিষয়টি ট্রাইব্যুনালই বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি দলের দায়িত্বশীল নেতার মুখে এমন কথা মানায় না। প্রসিকিউশন জামায়াত নেতার এই বক্তব্য অসত্য বলে মনে করে।
উপস্থিত আসামিদের বিচার শেষ হতে দেরি হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তামিম বলেন, পলাতক আসামিদের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আইনজীবী নিয়োগ করে। তারা দ্রুত প্রসিকিউশনের নথিপত্র দেখে মামলা চালান। অন্যদিকে আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নিয়োগ করা একাধিক আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করেন। এসব মামলায় বিভিন্ন কারণে সময় বেশি লাগে।
তামিম আরও জানান, খুব শিগগিরই বেশ কয়েকজন উপস্থিত আসামির মামলার বিচার একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। মূলত পলাতক আসামিদের মামলার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় সেগুলো আগে শেষ হচ্ছে, আর উপস্থিত আসামিদের মামলা শেষ হতে একটু বেশি সময় লাগে।
প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে উপস্থিত আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, কামরুল ইসলাম ও জিয়াউল আহসানসহ অনেকের মামলার বিচার চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব মামলার কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


