সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ নেই: নাহিদ

সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ নেই: নাহিদ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নতুন করে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগেই সংস্কার নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

রোববার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) যুবশক্তির যুব সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এ লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশন গঠন, জুলাই সনদ প্রণয়ন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের পর সরকার এসব উদ্যোগকে অস্বীকার করছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। সেটার জন্য ঐকমত্য কমিশন হয়েছিল। একটি গণভোট হয়েছিল, জুলাই সনদ হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম সরকার সবকিছুকে অস্বীকার করল।’

গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জনগণ গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে দুই দফায় পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে।

সরকারের গঠিত নতুন কমিটির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলকে সেখানে আলোচনার জন্য ডাকা হচ্ছে, অথচ সংস্কার নিয়ে আলোচনা নির্বাচনের আগেই শেষ হয়েছে।

নাহিদ বলেন, ‘এখন হচ্ছে বাস্তবায়নের সময়। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘সালাউদ্দিন সাহেবের কোনো কমিটিতে বিরোধী দল যাবে না। সেখানে কোনো মতামত দেবে না।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটে ভোট দিয়ে জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তার ভাষ্য, সংস্কারের বিষয়ে নতুন করে মতামত দেওয়ার কিছু নেই, বরং জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংস্কার প্রশ্নে সরকারের টালবাহানার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, অতীতে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সরকার আবারও একই ধরনের চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আট মাসে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আট মাস পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। তরুণদের জন্য ঋণ, প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং দলীয় লোকজনকে সেখানে বসানোর চেষ্টা চলছে। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল চাকরিতে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নাহিদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহার না করার দাবি জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

বক্তব্যে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। ডিসেম্বরে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ ছাড়া মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাপানের সঙ্গে সরকারের আলোচনা ও চুক্তির বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো চুক্তিতে ভারতকে করিডর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দেন।

বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি জানান। রাজনৈতিক মামলাকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad