ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী যাত্রী। সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনা চলাকালেই ভুক্তভোগী নারী জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে আকুতি জানালে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবু বক্কর সিদ্দিক (২২)। তিনি নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ট্রেনের খাবার গাড়ির (ক্যানটিন) কর্মী।
পুলিশ ও ৯৯৯ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ওই নারী (৪৪) ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে ভুলবশত টিকিট ছাড়াই ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে উঠে পড়েন। ট্রেনের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সিরাজগঞ্জ যাওয়ার কথা জানান। পরবর্তী সময়ে ট্রেনের সিটে বসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ট্রেনের ক্যানটিন বয়দের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিকসহ তিনজন মিলে তাকে চলন্ত ট্রেনেই একাধিকবার ধর্ষণ করে। নির্যাতনের শিকার নারী চলন্ত ট্রেন থেকেই বুদ্ধি খাটিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। কলটি রিসিভ করেন ৯৯৯–এর কলটেকার কনস্টেবল মো. কাইফ শাহ। ৯৯৯ দ্রুত ট্রেনের বর্তমান অবস্থান সনাক্ত করে ট্রেনের পরবর্তী স্টপেজ শান্তাহার রেলওয়ে থানাকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। অভিযানটি সার্বক্ষণিক সমন্বয় করেন ৯৯৯–এর পুলিশ ডিসপাচার এএসআই তরুণ কুমার আচার্য্য।
সংবাদ পেয়ে শান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের একটি দল প্রস্তুত থাকে। রাত ৩টার দিকে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বগুড়ার শান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে পুলিশ সেখান থেকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ক্যানটিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে তার অপর দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


