চট্টগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী হেলাল উদ্দিনকে হত্যার মামলায় তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১-এর বিচারক নিষ্কৃতি হাগিদক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডিত হোসনে আরা বেগম নগরের কোতোয়ালি থানার লাভলেইন ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৯ মে রাত একটার দিকে নগরের এনায়েত বাজারের বাটালী রোডে জাফর সওদাগরের কলোনিতে ভাড়া বাসায় হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের পারিবারিক কলহ হয়।
একপর্যায়ে হোসনে আরা বেগম অস্ত্র দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এরপর ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে যান তিনি।
ওই দিন দুপুরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার মুখ, ডান পা ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাহাবুদ্দিন খান বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১০ সালের ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ বলেন, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে হেলাল উদ্দিনকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হোসনে আরা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


