ঋণসংক্রান্ত তিনটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার এ আদেশ দেয়।
ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর অধীনে দেওয়ানি মামলা এবং চেক ডিজঅনারের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা পাশাপাশি চলতে পারবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার ঘটনা দীর্ঘদিনের। অনেক ঋণগ্রহীতা জনগণের আমানতের অর্থ নিয়ে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি ও সম্পদ গড়ে তোলেন। খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার অর্থঋণ আদালত আইন প্রণয়ন করেছিল।
তিনি বলেন, চেক ডিজঅনার বা চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়ে ১৮৮১ সালের আইনের ১৩৮ ধারায় পৃথক আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে দেওয়ানি মামলা চলার পাশাপাশি ওই ঋণের বিপরীতে দেওয়া চেক ডিজঅনার হলে ফৌজদারি মামলাও চলতে পারবে কি না, সেটিই ছিল আইনি প্রশ্ন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ঋণখেলাপিদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, অর্থঋণ আদালত আইনের অধীনে মামলা দেওয়ানি প্রকৃতির এবং এতে সাধারণত কারাদণ্ড বা জরিমানার সুযোগ নেই। তাই একই ঋণের বিপরীতে চেক ডিজঅনারের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা চলতে পারে না। তবে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, দুটি মামলা একই সময়ে চলতে পারে, কারণ এগুলো ভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হাইকোর্টের রায় ও আপিলের প্রেক্ষাপট
অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক রায়ে পর্যবেক্ষণ দেয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং ১৮৮১ সালের আইনের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত। ওই রায়ে চলমান মামলাগুলোর কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পর ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর লিভ পিটিশন গ্রহণ করা হয় এবং ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ একই ধরনের বিষয়ে চলমান চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে। ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তিনটি মামলায় আপিল করা হয়। সোমবার তিনটি মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ আদেশের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চেক ডিজঅনার হলে ফৌজদারি মামলাও চালাতে পারবে।


