গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠেছে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা।
সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংকে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পোশাক কারখানার ফটক ভাঙচুর করা হয়েছে। মৌচাক এলাকায় ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশ বক্স। গাজীপুরের কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

এর আগে শনিবার একই দাবিতে শ্রমিকেরা চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্পাঞ্চলে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। তবে সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।


