আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে খুলনায় বইছে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান উৎসবকে ঘিরে মহানগরী ও জেলাজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। স্থানীয়ভাবে ‘পাল’ নামে পরিচিত শিল্পীরা প্রতিমাগুলোতে রঙের শেষ ছোঁয়া দিতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
খুলনা মহানগরী ও জেলায় মোট ১ হাজার ১১টি পূজা মণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরীতে ১২৪টি এবং ৯টি উপজেলায় ৮৮৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু ও জেলা সভাপতি কৃষ্ণ সাহা জানান, দুই অঞ্চলে ১ হাজার ৫০ জনের বেশি প্রতিমা শিল্পী কাজ করছেন। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এদিকে, দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি দেখতে বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।
শহরের ধর্মসভা পূজা মণ্ডপের শিল্পী চন্দ্র শেখর মণ্ডল জানান, শিল্পীরা গত বছরের তুলনায় এ বছর কিছু বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রতিটি প্রতিমা তৈরির জন্য প্রায় ৯ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পেলেও এ বছর ১১ হাজার ৫০০ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিচ্ছি। প্রতিটি মণ্ডপ সম্পূর্ণ করার জন্য আমরা ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছি।’ মাটি, খড়, বাঁশ, পাট ও দড়ির মতো কাঁচামালের দাম বাড়ায় সামগ্রিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান ধর্মসভা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৌরভ ঘোষ সনি।
মণ্ডপগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত মণ্ডপ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে নগদ অর্থ ও ভিজিএফ চাল হস্তান্তর করবেন। জেলা পূজা কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ সাহা জানান, জেলা প্রশাসন এই সপ্তাহে নয়টি উপজেলা ও দুটি পৌরসভার প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বিতরণ করবে। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১২৪টি মন্দিরের মধ্যে ৭৭টি মন্দির শনিবার ১০ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৭০ সহাজার টাকা পাবে। এছাড়া জেলার মোট ৯৪৪টি মন্দির ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টন চাল পাবে।
উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিন মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পূজা মণ্ডপ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নিজ নিজ মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অনুরোধ করছি।’
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, মণ্ডপগুলোকে ঝুঁকির স্তরের ভিত্তিতে ক্যাটাগরিভুক্ত করা হবে। উদযাপনের সময় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা দল দায়িত্ব পালন করবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এমন গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট রোধ করতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সচল থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।


