অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় শুধু পদত্যাগের মাধ্যমে দায় এড়ানোর সুযোগ না দিয়ে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, মন্ত্রী কিংবা সাধারণ নাগরিক, সবার ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ সমান হওয়া উচিত।
সোমবার বিকালে রাজধানীতে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি অপরাধে আমরা দেখতেছি পদত্যাগ করিয়ে তাদেরকে আরো বাঁচিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তার মতে, ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি পদত্যাগ নয়, বরং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা।
সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘যখন একজন প্রতিমন্ত্রীকে মাদক নির্মূল করতে যাইতে হয়, তার মানে খুব ক্লিয়ারলি বোঝা যাচ্ছে যে বাকি কোনো প্রতিষ্ঠান ফাংশন করছে না।’এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈধ অস্ত্র ব্যবহারেরও বিধিমালা রয়েছে। ঘটনাস্থলে আরেক ব্যক্তির হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থাকা এবং আরও কয়েকজনের হাতে অস্ত্র থাকার কথা উল্লেখ করে সেগুলোর বৈধতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এটা একটা ল অ্যান্ড অর্ডার ইস্যু, এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ, এটাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অ্যাড্রেস করা উচিত।’ তার মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি পদত্যাগের মাধ্যমে নয়, আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত।
এর আগে আড্ডার ঘটনায় ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধের শাস্তি তো পদত্যাগ না। তার অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় পদত্যাগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মূল অপরাধের বিচার আড়াল করা হচ্ছে।
সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন আচরণ অন্যদেরও আইন ভাঙতে উৎসাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এনসিপির মুখপাত্র।
তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তীতে আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থান করছি বলে তো আমি একজনকে হত্যা করার সার্টিফিকেট পেয়ে যাইনি। একইভাবে পূর্ববর্তী কেউ ভালো অবদান রাখছে বলে তো আজকে সে আইন ভঙ্গ করার সার্টিফিকেট পেয়ে যায়নি।’
আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দেখার বিষয় হচ্ছে আমার দেশের আইনটা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না।’


