ইরানের প্রস্তাব মেনে শান্তি চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সংঘাত এড়ালে হরমুজ প্রণালির ওমানি অংশ দিয়ে বিনা বাধায় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধ নিশ্চিত করা গেলে ওমানের জলসীমা দিয়ে ইরানের বিপরীত পাশ ব্যবহার করে তেহরান জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে এবং তেহরানের পক্ষ থেকে এতে কোনো বাধা থাকবে না।
তবে ইরান ওই জলপথে পেতে রাখা কোনো মাইন অপসারণে রাজি হবে কি না অথবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজসহ সব ধরনের জাহাজ অবাধে চলাচলের অনুমতি পাবে কি না তা নিশ্চিত করেনি তেহরানের কর্মকর্তারা।
এমনকি ইরানের এই প্রস্তাব ওয়াশিংটন মেনে নেবে কিনা তাও নিশ্চিত নয়। ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সম্ভাব্য কোনো অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ শর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একটি পশ্চিমা নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ওমানি জলসীমা দিয়ে জাহাজ অবাধে চলাচলের এই প্রস্তাব আগে থেকেই বিবেচনায় ছিল, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেওয়া হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরান ও ওমানের মধ্যে ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার প্রধান পথ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের পাশপাশি সারসহ জলপথে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বাধার কারণে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে প্রণালি দিয়ে নিরাপদে ফের জাহাজ চলাচল শুরুর ওপর গুরুত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ পথে নৌযান চলাচলে অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধের দাবি জানালে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত বেশ কিছু শর্তে আপোষহীন থাকায় কোনো সমঝোতা ছাড়াই শান্তি আলোচনা শেষ হয়।
এদিকে ইরান যেসব কঠোর প্রস্তাব বিবেচনা করছিল, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য জাহাজ থেকে শুল্ক আদায় এবং প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব আরোপের মতো শর্ত ছিল। এসব প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে বৈশ্বিক নৌপরিবহন শিল্প।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে চলতি সপ্তাহেই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সদস্য দেশগুলোর বৈঠকে ইরানের শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এমন পদক্ষেপ ‘একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ তৈরি করবে।
কাজেই ইরানের নতুন প্রস্তাবটি সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার প্রথম দৃশ্যমান ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের দিকেও এটিকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থার উদ্যোগে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মতিতে দুইমুখী নৌপথ ব্যবস্থা চালু করা হয়, যার মাধ্যমে সরু হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের জলসীমা ভাগ করে জাহাজ চলাচলের বর্তমান পথ নির্ধারণ করা হয়।


