মিয়ানমারের কাচিনে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন।
শুক্রবার কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) মুখপাত্র কর্নেল নও বুর বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কাচিন রাজ্যের ভামো শহরের পশ্চিমে অবস্থিত টিলিন গ্রামে এই বিমান হামলা চালানো হয়।
কর্নেল নও বু জানান, যুদ্ধবিমান থেকে যেখানে বোমা ফেলা হয়, সেখানে মৃতদের জন্য প্রার্থনায় অংশ নিতে মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ওই এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবির, একটি স্কুল এবং গ্রামের বাজারও ছিল। হামলার সময় গ্রামটিতে প্রায় ৫০০ মানুষ অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এলাকাটিতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় ওই হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এপির সাংবাদিকরা।
কাচিনভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম হামলার পরের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেগুলোতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন এবং হামলায় নিহতদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
নও বু জানান, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই উত্তরাঞ্চলীয় ভামো টাউনশিপ থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা মানুষজন।
এই সপ্তাহের শেষে রোববার ভামো টাউনশিপেই মিয়ানমারের তিন ধাপের জাতীয় নির্বাচনের শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কেআইএ মুখপাত্রের দাবি, ভামো শহরের মূল এলাকা কেআইএ ও তাদের মিত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এরপর বহু মানুষ অস্ত্র হাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিলে দেশটির বড় অংশ সশস্ত্র সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
কাচিন ইনডিপেনডেন্স আর্মি এই জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী। তারা নিজস্ব অস্ত্র তৈরি করে এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা গণতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে জোট তৈরি করেছে।
বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাত হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।


