প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সহিংসতা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুনের ঘটনায় নির্দেশদাতাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সবকিছুর নেতৃত্ব দিয়ে দম্ভ প্রকাশ করা এসব ব্যক্তিদের কাউকে আটক করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই সংবাদপত্রে সৃষ্ট ঘটনায় জড়িত ৩১ জনকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ১৭ জনের ছবি দেখে ওই রাতের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য।
তাদের মতে, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা প্রথম আলো ক্যানটিনে ঢুকে নিত্যপণ্য নিয়েছে। হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের নির্দেশদাতা ও জড়িতরা কেউ এখনো আটক হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে নেই সদুত্তর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন
গত বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার নীরব সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী কারওয়ান বাজারের অনেক ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জনের যে ছবি ডিএমপি প্রকাশ করেছে তা দেখে ভিন্নমত জানিয়েছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। তারা বলছেন, অবস্থা দেখে মনে হয়েছে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত।
সেখানে উপস্থিত থেকে যারা আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আগুন নেভার আগ পর্যন্ত তারা ভবনের সামনে ছিল। তারা উচ্চস্বরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ওইসব ব্যক্তিদের কেউ নেই। যারা আটক হয়েছেন তারা বয়সে তরুণ-যুবক। এরা ভাঙচুরের সুযোগে ভবনে ঢুকে কিছু মালামাল ও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
প্রথম আলোর একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়ে বেশ কয়েকজন একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে দম্ভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ডেইলি স্টারে হামলা ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ায় উল্লাস প্রকাশ করে মন্তব্য করেন কয়েকজন। ডিএমপি যাদেরকে ধরেছে তাদের মধ্যে ওইসব ব্যক্তিদের কেউই নেই।
এদিকে, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল এলাকার ফুটপাতের দোকানিদের অনেকে ডেইলি স্টার সেন্টারে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের প্রত্যক্ষদর্শী। তাদের মতে, মাঝ বয়সি কয়েকজন ব্যক্তির প্রকাশ্য নির্দেশে ভবনটিতে তাণ্ডব চালানো হয়। পুলিশ যাদেরকে ধরেছে তাদের মধ্যে ওইসব ব্যক্তিদের কেউ নেই।


