কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় অভিযান চালিয়ে আট রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে মানব পাচারকারী চক্রের চার নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় আব্দুল মোতালেব ওরফে ‘কালা বদ্দা’র বাড়িতে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কয়েকজনকে আটকে রাখার খবর পায়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পাচারকারী পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করা হয়।
এ সময় ছয় নারী ও দুই শিশুসহ মোট আট ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
আটক মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা হলেন, টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের চার নাম্বার ওয়ার্ডের পানছড়ি পাড়া এলাকার আসমা (১৯), জহুরা বেগম (৪৩), সাহারা খাতুন (৬২) এবং শাবনূর (২০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা জানান, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা তাদের ফাঁদে ফেলে এবং পরে মাথাপিছু টাকা নিয়ে চক্রের কাছে হস্তান্তর করে।
আটক ব্যক্তিরাও স্বীকার করেছেন, পাহাড়ি এলাকায় বিজিবির টানা অভিযানের কারণে পাচারকারীরা এখন লোকালয়ের মধ্য দিয়ে সাগরপথ ব্যবহার করছে।
টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘মানব পাচার দমনে বিজিবির কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের পাহাড় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত কোথাও পাচারকারীদের আস্তানা গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আটক চারজনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।


