জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হলেও ঢাকার স্বাভাবিক জনজীবন কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।
সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশেপাশের বিচারিক এলাকা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। সুপ্রিম কোর্ট এলাকাতেও বিপুল নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। মাজার গেটের কাছে সেনা সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। এ সময় পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের ভেতর বাইরে টহল দিচ্ছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
অন্য দিনের তুলনায় রাজধানীর পথঘাটে মানুষের চলাচল কিছুটা কম দেখা যায়। যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই অফিসগামী ও দূরপাল্লার যাত্রী।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাধারণ দিনের তুলনায় যাত্রী ভিড় কম জানিয়ে রাজশাহীগামী যাত্রী নাজির আলী বলেন, ‘আগের টানটান পরিস্থিতির দিনগুলোর তুলনায় আজ মানুষ একটু বেশি মনে হলেও, স্বাভাবিক ভিড় নেই।’ আজকের দিনকে ঐতিহাসিক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘হাসিনার রায়ের অপেক্ষায় প্রায় সবাই আজ বাসায় আছেন।’
ফার্মগেট এলাকায় আনন্দ সিনেমা হলের কাছে ছিল সাঁজোয়া যানসহ (এপিসি) বিপুল পুলিশ মোতায়েন। সেখানে যাত্রী অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেল চালক সাদেকুর রহমান জানান, যাত্রী আজ একদমই কম। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকে ভাবছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মামলা ঘিরে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নাশকতার চেষ্টা করতে পারে।’

এদিকে সকালে থেকেই মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দিকে। এখানে বড় পর্দায় সরাসরি দেখানো হবে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা। রায় দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।

নামাপাড়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রায় দেখতে আসা সাগর জাহান জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরিবেশটা উৎসবমুখর। শত মানুষের খুনির বিচার হবে আজ।’ তিনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকরের দাবিও জানান।
এ মামলার রায় দেবেন তিন সদস্যের বেঞ্চ, যার নেতৃত্বে আছেন বিচারপতি গোলাম মোর্তুজা মজুমদার। আগের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত কথিত অপরাধগুলোর পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন শেখ হাসিনা।


