বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথেসাথে বাড়ছে বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে প্রার্থীতা বাতিলের ঘোষণা। শুক্রবার মাঝরাতে আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে গেছেন লেজেন্ডস অফ রূপগঞ্জ ক্লাবের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল। শনিবার সকালে নিজের প্রার্থীতা বাতিল করেছেন হাসিবুল আলম। এর আগে গত বুধবার জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল প্রত্যাহার করেছেন নিজের মনোনয়নপত্র।
হাসিবুল-তামিম-বাদলদের নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করলেন। গত বুধবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। তবে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বিসিবি নির্বাচনের পরিবেশ আর স্বচ্ছতাকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নগুলোকে আরো উস্কে দিচ্ছে।
সর্বশেষ নির্বাচন বয়কট করা হাসিবুল পরিচালক পদে লড়তে চেয়েছিলেন রাজশাহী বিভাগ থেকে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পেরিয়ে গেছে, তাই ব্যালট পেপারে তার নাম থাকবে। কিন্তু অংশগ্রহন থাকছে না। বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসিবুল জানান, বিসিবিতে এসেছিলেন রাজশাহীর বিভাগীয় কোটায় কতজন কাউন্সিলর ই-ভোট দেবেন।। কিন্তু নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি তিনি।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এই কাউন্সিল বলেন, ‘গত ২ অক্টোবর আমি নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছি। আমার ভোটারদের খুঁজে পাচ্ছি না, ভোট চাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। আমি মনে করি মুখলেছুর রহমানের (এই ক্যাটেগরির আরেক প্রার্থী) মনোনয়নপত্র বাতিল করা উচিত। তিনি যেভাবে ভোট করছেন, তা পুরোপুরি অবৈধ। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব কাউন্সিলর প্রলোভনে পা দিয়েছেন, তাদের কাউন্সিলরশিপও বাতিল করতে হবে।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাটাগরি–১ থেকে ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে মোট ভোট দেবেন ৩৫ জন। এর মধ্যে ১৯ জন ই-ভোট পদ্ধতিতে এবং ১৬ জন সরাসরি এসে ভোট দেবেন।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে হাসিবুল বলেন, ‘যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে বিসিবি নির্বাচনের মান আরও খারাপ হবে। আগের নির্বাচনের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি এখন চোখে পড়ছে। সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে না, বরং এটা প্রহসনের নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি মনে করছি এই প্রক্রিয়ায় ভালো কোনো ফল আসবে না। ফলে আমি স্বেচ্ছায় নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালাম। আর অংশগ্রহণ করব না।’
এক চিঠিতে নির্বাচন থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করা নিয়ে বাদল লেখেন, ‘আমি লুৎফর রহমান বাদল, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান। আসন্ন বিসিবি নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলাম। এখানে কারও দিকে আঙুল তুলছি না। তবে অদূর ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কখনো অনুকূলে থাকলে সবাইকে জানাব— কেন এবং কি কারণে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।’
এর আগে গত বুধবার সাবেক অধিনায়ক ও পরিচালক পদপ্রার্থী তামিমও বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন নিয়ে। বিসিবি কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘আমিসহ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। প্রত্যাহারের কারণটা খুবই স্পষ্ট। আমার কাছে মনে হয় না বিস্তারিতভাবে আপনাদের কিছু বলার দরকার আছে। নির্বাচন কোন দিকে যাচ্ছে, এই জিনিসটা এখন পরিষ্কার। যখন যেমন মনে হচ্ছে, যখন যা মনে হচ্ছে, তখন তা করা হচ্ছে। এটা আসলেই নির্বাচন নয়, ক্রিকেটের সঙ্গে এই জিনিসটা কোনো দিক থেকেই মানায় না।’
এসবের সাথে বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগও উঠেছে বেশ কয়েকবার। নির্বাচনের বেশ কজন প্রার্থী ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের রেশে পরিবেশও ছিল বেশ উত্তপ্ত।


