যশোরে ৮ বছর ধরে জীর্ণ ঘরে প্রাথমিকের পাঠদান

যশোরে ৮ বছর ধরে জীর্ণ ঘরে প্রাথমিকের পাঠদান
মনিরামপুর উপজেলার পাড়িয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ আট বছর ধরে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পাড়িয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ চলছে অস্থায়ী জরাজীর্ণ টিনের ঘরে। সেখানে বিদ্যালয়ে আছে, কিন্তু নেই কোনো স্থায়ী ভবন।

২০১৭ সালে ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ২০২০ সালে তা ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু এখনো তৈরি হয়নি নতুন কোনো কাঠামো। ফলে রোদ, বৃষ্টি আর কাদাপানিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় মাঠের একপাশে এখনও পড়ে আছে পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার চিহ্ন। সেখানে ছোট তিনটি টিনের চালায় কোনোমতে চলছে পাঠদান। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠ কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায়।

মনিরামপুর উপজেলার পাড়িয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: টাইমস

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জেবা ইসলাম বলে, ‘বৃষ্টি এলে মেঝেতে পানি জমে যায়। আর গরমে টিনের চালায় প্রচণ্ড তাপ হয়। এতে সব সময়ই আমাদের অনেক কষ্ট হয়। ঠিকমতো ক্লাস করতে পারি না।’

আরও পড়ুন

‘আমাদের স্কুলে আসতে ভালো লাগে না। এখানে খেলার মতো জায়গা নেই। আমার বন্ধুরাও স্কুলে আসে না। তাই আমারও ভালো লাগে না’ বলে দু:খ প্রকাশ করে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন।

অভিভাবক তরিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, ‘পড়াশোনার ন্যুনতম পরিবেশ নেই এই স্কুলে। বাচ্চাদের কষ্ট দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগে। দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে। কারণ অভিভাবকরা এমন পরিবেশে তাদের সন্তানদের পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।’

১৯৬০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০২০ সালে বিদ্যালয়টির ভবন ভেঙে ফেলা হলেও নতুন করে নির্মাণের কাজ আজও শুরু করা হয়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেশমা খাতুন জানান, ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও ২০১৮ সালেও বিদ্যালয়টিতে ১১০ জন শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু পাঠদানের এমন শোচনীয় পরিবেশের কারণে বর্তমানে কাগজে-কলমে ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে, তাদের উপস্থিতির সংখ্যা ক্রমেই কমছে। কারণ ভবন না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম ভবন নির্মাণে বিলম্বের কারণ হিসেবে জমির জটিলতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের মোট ৪৮ শতক জমির মধ্যে পাঁচ শতক জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের কারণেই নতুন ভবনের দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। দ্রুত এই জটিলতা কাটিয়ে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad