বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা মামলা’ দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের’ মত বিনিময় সভায় তুমুল হট্টগোল হয়েছে।
ফেসবুকে এ সংক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় স্থানীয় সময় বুধবারের ওই মতবিনিময় সভায় প্রবাসী সাংবাদিক সুলতানা রহমান তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা মামলা’ দায়েরের বিরোধিতা করেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বাংলাদেশে হত্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা কি হত্যা করেন?’
‘না, তারা কখনোই তা করেন না। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের সকলের উচিত এর প্রতিবাদ করা,’ বলেন সুলতানা।
তার বক্তব্যের মাঝেই একদল প্রবাসী সাংবাদিক চেয়ার ছেড়ে উঠে হইচই করে প্রতিবাদ জানান। এ সময় একজনকে উত্তেজিত হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি ফ্যাসিবাদের দালালি করবেন না। কতজন জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছে, আপনি জানেন?’
হট্টগোলের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে প্রেসক্লাবের একজন নেতাকে করজোড়ে দাঁড়িয়ে বলতে শোনা যায়, ‘সুলতানা আপা আমাদের প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য। তার একটি ভিন্নমত থাকতেই পারে।’
‘কিন্তু আমাদের কী সহনশীলতা নাই? ভিন্নমতকে কটাক্ষ করা মানে পেশাকে অপমান করা,’ যোগ করেন তিনি।
তার এ কথার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিনিয়র সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ করে।

তালিকার শীর্ষে থাকা সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা, শাকিল আহমেদসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার একাধিক মামলায় তাদের আটক দেখানো হয়েছে।
এছাড়া সিনিয়র সাংবাদিক নঈম নিজাম ও সৈয়দ বোরহান কবিরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনের মামলায় দায়ের করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। বিচ্ছিন্নভাবে আরও সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ।


