রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ৩৬ দশমিক ১৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন নিজের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
দুদকের অভিযোগ, ছিদ্দিকুর রহমান সরকার দুই মেয়াদে রাজউকের চেয়ারম্যান, সেনা সদরে ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের মাধ্যমে অবৈধভাবে ৩৬ দশমিক ১৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ছিদ্দিকুর রহমান তার ৩৮টি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭৫ দশমিক ৬৫ কোটি টাকা জমা ও উত্তোলন করেছেন এবং সব মিলিয়ে ১৫১ দশমিক ৩১ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন বলেও দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, তিনি তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৩ দশমিক ১৬ কোটি টাকা জমা ও উত্তোলন করেছেন এবং ২৬ দশমিক ২৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, ‘সব মিলিয়ে তিনি ১৭৭ দশমিক ৫৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎসকে রূপান্তর, হস্তান্তর ও গোপন করে তিনি মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।’
এসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।


