মামলার কারণে ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বন্ধ থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ ও অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সারা দেশে চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিংড়ি মহালের সুষ্ঠু ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা জরুরি।
সরকারের রাজস্ব আদায়ে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো লিজ নেওয়া জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার রাজস্ব আদায় অব্যাহত রাখতে পারবে।
চিংড়ি চাষের উপযোগী কিংবা যেখানে ইতোমধ্যে চিংড়ি চাষ হচ্ছে, এমন খাসজমি দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়া এবং চিংড়ি মহাল কমিটিগুলো পুনর্গঠনের তাগিদ দেন তিনি।
এ ছাড়া ১৯৮০-এর দশকে কক্সবাজারের চকোরিয়ায় সুন্দরবন নিধনের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় বন (কোস্টাল ফরেস্ট) নির্ধারণ ও এর সীমানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, চিংড়ি খাতে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও গত কয়েক দশকের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারিয়েছে। একই সঙ্গে চাষিরাও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি সংশোধন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বৈঠকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দেশের চিংড়ি মহালগুলো থেকে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় এবং অতীতে হওয়া অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল ব্রত হলো কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়া। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হচ্ছে।
সভায় কক্সবাজার জেলার চিংড়ি মহালসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কয়েকটি বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে, যেসব জমিতে বন নেই, সেগুলো বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করা।
এ ছাড়া বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) হাইকোর্টে মামলা করায় ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এসব মহালের কার্যক্রম সচল করতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন, নতুন খাজনা নির্ধারণ এবং আগে থেকে অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


