ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে শ্রমিকরা।
সোমবার সকাল থেকেই কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে কোনাবাড়ী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকেরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যানজটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভোগড়া বাইপাসসহ কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরে ১৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা এরই মধ্যে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন।
সকাল থেকে জেলার কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে জেলার ১৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, আন্দোলনরত কয়েকজন শ্রমিকের অভিযোগ, বহিরাগতরা শ্রমিকদের আন্দোলনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে। প্রকৃত শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন। তবে এ বিষয়ে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সকাল ১০টার দিকে কয়েকটি এলাকায় অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে কিছু এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। এর মধ্যে সরকার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন নয়, দ্রুত ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে কার্যকর করতে হবে।


