বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, আঘাত হানতে পারে মঙ্গলবার

বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, আঘাত হানতে পারে মঙ্গলবার
ছবি: দ্য হিন্দু
Advertisement
Advertisement

বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সোমবার ভোরে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় যা আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার সকালে দেশটির দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম প্রস্তাব করেছে ভারত।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে পৌঁছানোর আগে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান গতিপথ বজায় থাকলে মঙ্গলবার সকালে এটি অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে এটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় এরইমধ্যে তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই ও তিরুভাল্লুর জেলার সব স্কুল ও কলেজে সোমবার ছুটি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় তেলেঙ্গানা রাজ্যের ছয়টি জেলায় কমলা সতর্কতা এবং পাঁচটি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

এদিকে চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেন্নাই থেকে বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, কাদাপা ও তিরুচিরাপল্লির মধ্যে চলাচলকারী মোট ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের আরও তথ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

কয়েকদিন আগেই ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর আঘাতে বিপর্যস্ত হয়েছিল অন্ধ্র প্রদেশ। এর মধ্যেই নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে দেশটির অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি এবং বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, ভারতের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার হিসাবে ২০২৬ সালের অক্টোবর ছিল ১৯০১ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ অক্টোবর মাস।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad