রোববার সকাল থেকে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অচল থাকার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন খাতের অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটে।
রোববার সকাল সাড়ে আটটা থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর ও আশপাশের এলাকায় পোশাকশ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
দিনভর আন্দোলন চলাকালে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনা, মৌচাক এলাকার পুলিশ বক্স, কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ এবং আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সফিপুর, মৌচাক ও আশপাশের অন্তত ৮ থেকে ১০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করায় শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষে শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩২ জন আহত হন।
চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দীপ্ত টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ও দৈনিক কালের কণ্ঠের কালিয়াকৈর প্রতিনিধি মাহবুব হাসান মেহেদীর ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন শ্রমিকেরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। কোনাবাড়ী, সফিপুর ও কালিয়াকৈরসহ আশপাশের এলাকায় শিল্প পুলিশের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হবে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম টাইমস’কে জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় রোববার সরকার নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিক নেতারা আন্দোলন স্থগিত করে সবাইকে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
শ্রমিক নেতা শাকিল টাইমস’কে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সোমবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
শ্রমিক নেত্রী স্মৃতি টাইমস’কে বলেন, ‘সরকার মজুরি বোর্ড ঘোষণার পর শ্রমিকদেরকে সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। এখন কারা বা কোন পক্ষ আন্দোলন করছে, তা আমাদের জানা নেই। প্রশাসনের কাছে দাবি, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’
এর আগে শনিবার একই দাবিতে চন্দ্রার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের জেরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়, যেখানে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং সেদিনও ৩২ জন আহত হন।


