গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সফিপুর এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কিছু শ্রমিকেরা কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার পর একপর্যায়ে বেরিয়ে এসে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। হাজারও শ্রমিকের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আশপাশের আট থেকে ১০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আপাতত পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কোনাবাড়ী, সফিপুর ও কালিয়াকৈরসহ আশপাশের এলাকায় শিল্প পুলিশের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন রাখা হবে।
এর আগে শনিবার একই দাবিতে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। দুপুর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহত শ্রমিকদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (পিপিএম) টাইমসকে জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রোববার সকালে আবারও অবরোধ শুরু হওয়ায় নতুন করে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বেতন বাড়াতে হবে। বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় তারা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন।


