১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন এক দফায় রূপ নিতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘এই সাত দফা মেনে নেন। তাহলে এক দফার পাথর আপনাদের ওপর চাপবে না। কিন্তু সাত দফা ভালোয় ভালোয় না মানলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হয়ে যাবেন।’
শনিবার রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ভোটে কারচুপি করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। বিএনপির দাবি, ৫১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের ফলকে গুরুত্ব দিলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।
তিনি বলেন, ‘তারা কোনো ভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। ধানাই-পানাই করছে। একবার ডানে যায়, আরেকবার বামে যায়। আমাদের বিভিন্ন লোভ দেখায়।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে তারা সংসদে যাননি। নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, জোট সরকার গঠন করলে সরকারি প্লট নেবেন না। কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী করমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না। তারা সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। সরকারও তাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্য উভয়েই ঘোষণা দিয়েছিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে এর দাবি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে। কিন্তু বিএনপি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে গেছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘চৌদ্দশত সন্তান তাজা রক্ত দিয়ে একদলকে সরিয়ে আরেক দলকে গদিতে বসানোর জন্য রক্ত দেয়নি। তারা পরিবর্তন চেয়েছিল। বাংলাদেশকে মেরামত করতে চেয়েছিল। আমরা সেই মেরামত ও রাষ্ট্র সংস্কার চাই।’
তিনি বলেন, গণভোটের রায় জনগণের রায়। ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন। এই রায় অগ্রাহ্য করার অধিকার সরকারের নেই। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল নিয়ে সরকারের দ্বৈত অবস্থানকে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা ১১ দল এই বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেব না। সরকারকে এই অবস্থানে আসতে বাধ্য করব। এটি আজ হোক, কাল হোক। সোজা আঙুলে কাজ হলে ভালো, না হলে আঙুল বাঁকা হবে।’
দেশে বিশৃঙ্খলা চান না জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের তিনটি লংমার্চ দেশের বড় একটি অংশ অতিক্রম করেছে। কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলে বিরোধী দল চুপ থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘জনগণের শান্তি কেড়ে নেওয়া হলে, অধিকার পায়ের নিচে ফেলে দেওয়া হলে বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে না। তখন সাত দফা যেকোনো সময় এক দফায় রূপান্তরিত হবে।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকার গণভোটের রায় মেনে নিলে তারা আর কোনো লংমার্চের ডাক দেবেন না। তবে সরকার অবস্থানে অনড় থাকলে ঢাকায় যাওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হবে।
জাতির জন্য আরেকবার লড়াইয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, জনগণ জিতে যাবে।’
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর। বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
পথসভা শেষে লংমার্চটি কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়।


