দুর্গাপূজার আর মাত্র দুই দিন বাকি। অথচ পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারসহ আশপাশের এলাকায় এখনো জমে ওঠেনি পূজার কেনাকাটা। দোকানগুলোতে পূজার নানা উপকরণ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম। এতে উৎসবের মৌসুমেও বেচাকেনা নিয়ে হতাশায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার রাজধানীর শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর ও বাংলাবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে এসব এলাকায় কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়লেও এবার উৎসব ঘনিয়ে আসার পরও তেমন ভিড় দেখা যায়নি।
দোকানিরা বলছেন, কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে থাকা ক্রেতারা কমিয়ে দিয়েছেন পূজার কেনাকাটা। উৎসবের মৌসুমেও বিক্রি নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা এখন শেষ মুহূর্তে ক্রেতা বাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শাঁখারীবাজারের সাজঘর দোকানের মালিক পিন্টু শাহ বলেন, পূজার আগে যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা, এবার তা নেই। সকাল থেকে দোকানে বসে থেকেও অনেক সময় ক্রেতার দেখা মেলে না।
পিন্টু শাহ বলেন, ‘আগে অনেকে দামি জিনিস কিনত, এখন কম দামের পণ্য খোঁজে। অথচ আমাদের খরচ বেড়েছে। আগে পণ্য আনতে ১০০ টাকা লাগলেও এখন পরিবহনেই ২৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।’
বাড়তি খরচে চাপে ব্যবসায়ীরা
দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমার মুকুট, চুলের ক্লিপ, কাপড় ও পুঁতির মালাসহ বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণের দাম বেড়েছে। গত বছর ২০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া মুকুটের সেটের দাম এবার ৩০০ থেকে ৭ হাজার টাকা।
পুঁতির দামও দ্বিগুণ হয়ে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। প্রতিমার অস্ত্রের দাম আকার ও ধরনভেদে ১৩০ থেকে ১ হাজার টাকা।
পিন্টু শাহ জানান, অনেক মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ দোকান থেকে আলাদাভাবে উপকরণ না কিনে চুক্তিতে পুরো সাজসজ্জার কাজ করিয়ে নেন। এতে ছোট দোকানগুলোর বিক্রির সুযোগ কমে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে সাজসজ্জার উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত বছর যে প্রতিমার সেট তৈরিতে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা লাগত, এবার তা বেড়ে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় ঢাকের দাম কিছুটা কমেছে।
শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা
পূজার সময় যত এগিয়ে আসছে, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশাও তত বাড়ছে। বেচাকেনায় মন্দা থাকলেও শেষ সময়ে পরিস্থিতি বদলানোর আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকেশ্বরী শঙ্খালয়ের দীপক নাথ বলেন, ‘শেষ সময়ে এবং পূজার দিনগুলোতে বেচাকেনা বাড়বে, আশা করছি।’
লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা সুব্রত সাহা বলেন, পূজার আগে শাঁখারীবাজার ও লক্ষ্মীবাজারে মানুষের ভিড়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এবার সেই চিত্র নেই।
জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে ষষ্ঠীর দিন থেকে বাজারে ভিড় বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
সূত্রাপুরের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার দাসের মতে, কেনাকাটায় মন্দা থাকলেও উৎসব ঘিরে মানুষের আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।
তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেশি। মানুষ বুঝেশুনে কিনছে। কিন্তু পূজা তো সবার আনন্দের বিষয়। আশা করি, পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে।’
গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। ১৫ অক্টোবর পঞ্চমী এবং ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা।
এরপর ১৭ অক্টোবর সপ্তমী, ১৮ অক্টোবর অষ্টমী, ১৯ অক্টোবর নবমী এবং ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে।


