মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পরকীয়ার অভিযোগ ও পারিবারিক কলহের জেরে রাশেদুল ইসলাম (৩৮) নামে এক পোশাককর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩২) পলাতক রয়েছেন।
নিহত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী হাসনা আক্তারও ভারট্যাক্স পোশাক কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে রাশেদুল ও হাসনার দুই সন্তানের চিৎকার শুনে তারা ছুটে যান। এ সময় ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় রাশেদুলকে দেখতে পান তারা। তার পাশে হাসনাকে রক্তমাখা ছুরি হাতে দেখা যায় বলে ওই ব্যক্তি দাবি করেন। পরে সন্তানদের সহায়তায় ঘরের দরজা খুলে রাশেদুলকে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে আসা হলে বাড়ির পাশের সড়কেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় হাসনা পালিয়ে যান।
নিহতের ছেলে আবুল হাসান দাবি করে, রাতে সে বাবার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। পাশের কক্ষে মা ও বোন ছিল। ভোর ৪টার দিকে বাবার চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে সে বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় তার মা রক্তমাখা ছুরি হাতে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
নিহতের রুমাইয়া জানায়, কয়েক দিন আগে তার মা একটি ধারালো ছুরি এনে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছুরিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে মা সেটি দিয়ে তার জন্মদিনের কেক কাটার কথা বলেছিলেন । তার দাবি, ওই ছুরি দিয়েই তার বাবাকে আঘাত করা হয়েছে।
লাশের সুরতহালকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজাউল করিম বলেন , ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি এবং রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


