ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় পৃথক কয়েকটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায়।
ইসরায়েল দাবি করেছে, হামলাগুলোর একটিতে হামাসের এক জ্যেষ্ঠ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলে একটি গাড়িতে চালানো বিমান হামলায় ওসামা আবু খাতের ও মোহাম্মদ আবু এলওয়ান নিহত হন। এতে আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
পরে এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মোহাম্মদ আবু এলওয়ানকে হামাসের জ্যেষ্ঠ অর্থবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘হামাসকে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে আমরা দেব না। গাজায় হামাসের অস্তিত্ব আর না থাকা পর্যন্ত আমরা থামব না।’ তবে বিষয়টিতে হামাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বুধবার পরবর্তীতে গাজা সিটি ও মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে পৃথক দুটি বিমান হামলায় আরও দুইজন নিহত হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত চারে। তবে শেষের এই দুটি হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পর গাজায় চালানো ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্তে সমঝোতা না হওয়ায় পুনর্গঠন কাজে গতি আসেনি। চুক্তির পরও অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলা।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ সময়ে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।


