মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনের উপজেলার তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মজিবুর রহমান (৫৫), মোছা. শামীমা আক্তার (৪৫), সাবিহা আক্তার (৬২) ও প্রাইভেট কার চালক সোহেল।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে জামালদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে চট্টগ্রামগামী নিউ বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাস মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার কুমিল্লামুখী লেন থেকে ঢাকামুখী লেনে ইউটার্ন নেওয়ার সময় বাসটির সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষ হয়। প্রাইভেট কারটিতে চালকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কার চালককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

হামদর্দ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সজল চন্দ্র সরকার বলেন, হাসপাতালে চারজনকে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার আংশিক আহত বাসযাত্রী মরিয়ম বলেন, ‘বাসটির চালক সম্ভবত নতুন ছিলেন। তার গাড়ি চালানোর দক্ষতা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। আমরা যাত্রীরা ভয়ে ছিলাম।’
গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রাইভেট কারের পাঁচ যাত্রীর মধ্যে চালকসহ চারজন মারা গেছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে বাসটি উল্টে থাকায় কিছুটা সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশের চেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


