রাজধানীর মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার জানায়, জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা। এসবের বিপরীতে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব ঝুঁকি ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাজধানীর শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর এলাকার দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দার দুটি প্রতিরোধমূলক দল।
এনবিআর জানায়, সকাল ১১টার দিকে গোয়েন্দা দল পিসি কালচার হাউজিংয়ের বাড়ি-১৪০, রোড-৫ এবং মোহাম্মদপুরের জয়েন্ট কোয়ার্টারের ৩৭/৮ নম্বর ভবনে একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দুটি গুদাম বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে ভবনের দারোয়ানের সহায়তায় গোপন গুদামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গুদামের মালিককে না পাওয়ায় ভবন মালিকের সহযোগিতায় তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, একটি গুদাম থেকে প্যাট্রন ন্যানো, মন্ড স্ট্রবেরি, মন্ড সিলভার ও ওরিস ন্যানো ব্র্যান্ডের ২ লাখ ৫৫ হাজার ২০০ শলাকা এবং অন্য গুদাম থেকে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট পাওয়া যায়।
গোয়েন্দা দল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, দুটি গুদামের ঠিকানা আলাদা হলেও প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। তিনি ডিলারশিপ ব্যবসার কথা বলে গুদাম দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন বলে ভবন মালিকদের জানানো হয়েছিল।
ভবনের দারোয়ানদের বরাত দিয়ে এনবিআর জানায়, সাধারণত দিনের বেলায় গুদাম বন্ধ থাকত এবং রাতের দিকে মালামাল আনা-নেওয়া করা হতো। পরে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে পণ্য পাঠানো হতো।
ভবন মালিকরা জানান, বৈধ ব্যবসার জন্য গুদাম ভাড়া দেওয়া হলেও সেখানে অবৈধ পণ্যের মজুত ছিল, এ বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না।
এনবিআর জানিয়েছে, জব্দ করা সিগারেট অবৈধ হওয়ায় তা নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে এসব ধ্বংস করা হবে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে রাজস্ব সংস্থাটি।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, অবৈধ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং জাল স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে।


