পাবনার আটঘরিয়ায় কিশোরী তমা খাতুন (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আদম আলীকে (৬০) গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চন্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আদম আলী উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, একদন্ত হাট থেকে বাজার নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। চন্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পুলিশ জানায়, হামলার একপর্যায়ে আদম আলী দৌড়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ওসি নাজমুল হক বলেন, কারা এবং কী কারণে আদম আলীকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তমা হত্যা মামলার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আদম আলী উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের নায়েব আলীর কিশোরী মেয়ে তমা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে স্থানীয় হাচেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় তমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর তমার বাবা নায়েব আলী আটঘরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলায় পলাতক থাকা অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর র্যাব-১২ পাবনা ও র্যাব-১৪ টাঙ্গাইলের যৌথ দল টাঙ্গাইল সদর থানার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদম আলীকে গ্রেপ্তার করে। র্যাবের বরাত দিয়ে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তমাকে ধর্ষণ এবং পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এতে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়।
তবে প্রায় এক বছর কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন আদম আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর তিনি মামলা তুলে নিতে এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। এমনকি তার প্রাণনাশের হুমকির কারণে তমার বাবা নায়েব আলী ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


