জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের শনিবারের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিকে ‘লং এক্সারসাইজ’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগর বিএনপির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে এরশাদ উল্লাহ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল, সমাবেশ বা লংমার্চ করার অধিকার রয়েছে। তবে এ ধরনের কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর হাতে বর্তমানে বিপুল অর্থ রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক থেকে দলটি বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছে এবং সেখান থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ওই অর্থ ব্যয় করতে না পারায়, এখন তা লংমার্চ কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে।
লংমার্চে বিপুলসংখ্যক গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিতে যদি এক হাজার গাড়ি অংশ নেয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে। এতে দেশের মূল্যবান সম্পদের অপচয় হবে। আমার মনে হয়, এটি লংমার্চ নয়, তাদের লং এক্সারসাইজ।’
তবে জামায়াতের আন্দোলনের সমালোচনা করলেও রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার স্বীকার করেছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র শক্তিশালীভাবে আবির্ভূত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল, সমাবেশ ও লংমার্চ করার অধিকার রয়েছে। এসব কর্মসূচি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চার অংশ।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলের আন্দোলনের কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো ফাটল তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘীতে সমাবেশের আয়োজন করেছে ১১-দলীয় জোট।


