রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শ্রমিক দলের বহিষ্কৃত নেতা মো. আলী কায়সার পিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম।
তিনি জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর সন্ধ্যায় তাকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানাধীন সাত মসজিদ হাউজিংয়ের ভাঙা মসজিদ ট্রাক টার্মিনালে অবস্থিত আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির অফিসে এ ঘটনা ঘটে। গত ৩১ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে পিন্টুসহ আরও কয়েকজন সেখানে গিয়ে সমিতির সদস্যদের কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদী আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য মো. বেলায়েত হোসেনের অভিযোগ, পিন্টুসহ অভিযুক্তরা এর আগেও বিভিন্ন সময় তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন পিন্টুর নির্দেশে অভিযুক্তরা সমিতির সদস্যদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং নগদ পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানান। সমিতির সদস্যরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা অফিসে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় অফিসের টেবিল, চেয়ার ও ব্যানার ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। পরে বাদী বেলায়েত হোসেনকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি মনোয়ার হোসেন মন্টু, সেক্রেটারি জহির হোসেন এবং ড্রাইভার সমিতির সভাপতি মো. নুশু মিয়াসহ অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোহাম্মদপুর থানায় পিন্টুর বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের তালিকায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ চাঁদাবাজদের মধ্যে তার নাম আট নম্বরে রয়েছে।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের মে মাসে আলী কায়সার পিন্টুকে মোহাম্মদপুর থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক পদ ও দলের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি চিঠি পাঠায় ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দল। সেখানে তার দলীয় সদস্যপদসহ বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয় এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও দখলবাজিসহ অন্যান্য কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে, তার দায়ভার একান্তই ব্যক্তিগত এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হয়।


