ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে খাসকামরায় ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে।
রোববার সকালে পূর্বের ক্ষোভের জেরে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাচ্চু। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা।
বাচ্চুর অভিযোগ, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারকের পিয়ন ফোন করে তাকে খাসকামরায় ডেকে নেন। তিনি সঙ্গে গাড়ির লগবই নিয়ে সেখানে যান। লগবইয়ে সকাল ৭টার সময় লেখা থাকার কারণ জানতে চান বিচারক।
জবাবে বাচ্চু বলেন, ‘স্যার, আপনি আটটার সময় গাড়িতে ওঠেন। সাতটার সময় যদি গাড়ি না পৌঁছায়, তাহলে গাড়ি ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার করব কীভাবে?’
বাচ্চুর দাবি, এ কথা বলার পরই বিচারক তার চোখের ওপর ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারেন। পরে বিচারকের পিয়ন তাকে হাত ধরে সরিয়ে দেন। একপর্যায়ে বিচারক তাকে লাথি মারেন, যদিও সেটি তার শরীরে লাগেনি। এ সময় তাকে গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাচ্চু বলেন, ‘এভাবে আমাকে মারতে পারেন না। প্রয়োজনে আমার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারতেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমি ন্যায়বিচার চাই।’
তবে গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা। বিচারকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাচ্চু বিচারকের গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে জানতে তাকে খাসকামরায় ডাকা হয়। সেখানে বাচ্চু গাড়ি পরিষ্কার করতে পারবেন না বলে জানালে বিচারক তাকে ধমক দিয়ে বের করে দেন। তবে তাকে মারধর করা হয়নি।
অন্যদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর গাড়িচালক আব্দুর রহিম জানান, বাচ্চু অসুস্থ অবস্থায় তাদের কাছে আসেন। পরে তাকে একজনের সঙ্গে জাতীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার চোখে ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।


