যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, জিয়নপুর ও চরকাটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও দেড় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার চার তলা ভবনের সামনের মাটি ধসে গেছে, বিলীন হয়েছে সীমানা প্রাচীরের একাংশ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো ভবনটি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নূরে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় মাদ্রাসার চেয়ার-টেবিল, আলমারি, শিক্ষা উপকরণসহ মূল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় পুরো স্থাপনাটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার তিনটি ভবন রয়েছে। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘ভবনটি আর নিরাপদ নয়। সীমানা প্রাচীর ও সামনের অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মূল্যবান আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনের তীব্রতায় যেকোনো সময় পুরো ভবনটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. ইশতিয়াক ইকবাল হিমেল জানান, মাদ্রাসার তিনটি ভবনের মধ্যে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত চার তলা ভবনটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। গত রোববার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন। এটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার, অসংখ্য বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীতীরের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ভাঙনে ৩০ থেকে ৪০টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অন্তত ১৫০টি বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চরকালিকাপুর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে মাদ্রাসাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।


