চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের একটি জুতার কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ২৮ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ফুজিয়ান হুইতেং কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। শুক্রবার সকালে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
আগুন লাগার সময় কারখানাটির ভবনের ভেতরে ২৩৭ জন শ্রমিক ও দুইজন দর্শনার্থী ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ২১৩ জনের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে নিখোঁজ থাকা আরও ২৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংক্রিটের তৈরি ভবনটির প্রথম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই তলায় একটি ওয়ার্কশপ ও গুদাম ছিল। স্থানীয় দমকল বিভাগের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, সিঁড়িতে স্তূপ করে রাখা জুতার তলার উপকরণের কারণে দমকলকর্মীরা আগুনের কাছে পৌঁছাতে বাধার মুখে পড়েন।
কারখানায় জুতা তৈরির এসব উপকরণ অত্যন্ত দাহ্য ছিল। আগুন নেভাতে দমকল বিভাগ ১৮৩ জন কর্মী ও ৩৫টি যান পাঠায়। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পাঁচতলা ভবনের ছাদে আটকে পড়া কয়েকজন শ্রমিক ঘন কালো ধোঁয়ার মধ্যে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভবনের ওপরের তলাগুলোর জানালা দিয়ে আগুনের শিখা বের হলেও দমকল বাহিনীর পানির পাইপ সেখানে পৌঁছাতে পারছিল না।
অনলাইন বিক্রয় ও আমদানি প্ল্যাটফর্মে থাকা পণ্যের তথ্য অনুযায়ী, ফুজিয়ান হুইতেং কারখানাটি চীনা ও বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জন্য জুতা তৈরি করত। জুতার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চিনচিয়াং শহরে এই কারখানাটির অবস্থান। আগুনে কারখানাটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
সিনহুয়া জানিয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কোম্পানির হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

এপির খবরে বলা হয়, চীনে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সমস্যা দীর্ঘদিনের। চলতি বছরের মে মাসে মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের ছাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হন। এর আগে ২০২৪ সালে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চিয়াংশি প্রদেশের শিনইউ শহরে নির্মাণাধীন একটি শীতলীকরণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডে ৩৯ জন নিহত হন।
কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতে চীনা কর্তৃপক্ষ বারবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ১৮ হাজার ২৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কম।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এ ঘটনায় দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চিনচিয়াং শহরে হাজার হাজার জুতার কারখানা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও শিল্প খাতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটি চীনের ‘জুতার রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এবং বছরে বিশ্বের মোট ক্রীড়া জুতার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ একশ কোটির বেশি জুতা উৎপাদন করে।
ছোট ছোট ওয়ার্কশপ ও কারখানা থেকে চিনচিয়াংয়ের রপ্তানিমুখী শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরকে চীনের বৈশ্বিক উৎপাদন শক্তি হয়ে ওঠার একটি মডেল হিসেবে দেখা হয়।


