ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। দেশটির অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনা ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। এতে এক সপ্তাহব্যাপী জানাজা, শোকযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
দাফনের আগে খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হেঁটে যান। কালো পোশাক পরিহিত লাখো শোকাহত মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত লাল প্ল্যাকার্ড হাতে শোকযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। চার মাসের বেশি সময় ধরে সংঘাত চলার পর গত মাসে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সম্প্রতি আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, খামেনির ছেলে ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনো জনসমক্ষে আসেননি। বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি; কেবল লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, খামেনির ওপর হামলার সময় মোজতবাও গুরুতর আহত হন। মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পাওয়ায় তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। পাশাপাশি নতুন হামলার আশঙ্কায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো জনসমক্ষে উপস্থিতি সীমিত রেখেছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর সেই দায়িত্ব পালন করেন।


