টানা ভারী থেকে অতি ভারী মৌসুমি বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি, ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও আবহাওয়াজনিত ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫১৮টি পরিবারের ২৬ হাজার ১১৯ জন এবং সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪ হাজার ৩০৭ জন।
রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্ম (আরসিপি) ও মানবিক সংস্থাগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে ৪ জুলাই ২৮ মিমি, ৫ জুলাই ২৪০, ৬ জুলাই ১২৯, ৭ জুলাই ৬৯ এবং ৮ জুলাই ১২৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ৯ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ২০০ থেকে ৫০০ মিমি বৃষ্টির সম্ভাবনায় উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ (এনএডব্লিউজি) জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও উজানের পানির কারণে কক্সবাজারের ৮টি উপজেলার প্রায় ৫ লাখ ৪ হাজার ৫০০ মানুষ আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আরসিপির তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ক্যাম্পে ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৫ জুলাই পানিতে ডুবে ২ শিশু, ৬ জুলাই পৃথক ভূমিধসে ৪ শিশুসহ ৮ জন এবং ৮ জুলাই ক্যাম্প-৫-এ আরেকটি বড় ভূমিধসে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়।
টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয়ঘর আংশিক এবং ১৩টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭টি শিক্ষাকেন্দ্র, ১৬৩টি ল্যাট্রিন, ৩৮টি পানির উৎস, ৪টি মসজিদসহ ৭৪২টি বিভিন্ন স্থাপনা এবং ৬৯৫টি রিটেইনিং ওয়াল, ১৪৬টি চলাচলের পথ, ১০৭টি সিঁড়ি, ১৪টি সড়ক ও ১২টি সেতুসহ ৯৭৪টি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যাম্প-১০। সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮৫ জনকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে ক্যাম্প-৬ থেকে।

সিসিসিএম জানিয়েছে, শুধু ৮ জুলাই ১ হাজার ১৬৯ পরিবারের ৫ হাজার ৭৪৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। খাদ্য নিরাপত্তা খাতের আওতায় ৮ জুলাই ৬২৪ পরিবারের ৩ হাজার ১০৬ জনকে জরুরি খাদ্য দেওয়া হয়েছে। ৬ জুলাই থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ৩ দশমিক ৯ মেট্রিক টন বিস্কুট ও ৯ হাজার ৬৫৮টি গরম খাবার বিতরণ করেছে। ওয়াশ খাতের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬৭টি ল্যাট্রিন, ১৯৭টি গোসলখানা, ১৩টি ফিকাল স্লাজ প্ল্যান্ট, ৪৪টি নলকূপ ও ১৩টি ট্যাপস্ট্যান্ডের মধ্যে বেশ কিছু অবকাঠামো ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মানবিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন করে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা ও জরুরি সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।’


