উজানের ঢল কমে আসায় গাইবান্ধার তিস্তাসহ সব নদ-নদীর পানি কমছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়া-কমার মধ্যে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। জেলার চার উপজেলার অন্তত ২৫টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। ইতিমধ্যে অন্তত ২০০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ঢল ও বৃষ্টি শুরু হলে আবারও পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
পানি কমায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হচ্ছে। চোখের সামনে শেষ সম্বল হারিয়ে ও বাড়িঘর হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা। ভাঙন প্রতিরোধে লোকদেখানো কাজ বন্ধ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের পানি ফুলছড়ির তিস্তামুখ পয়েন্টে দুই সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার এবং গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত এক মাস ধরে জেলাজুড়ে নদ-নদীর পানি ওঠানামা করছে। এর সঙ্গেই শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এতে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে যাচ্ছে। আসন্ন বড় বন্যায় পানি বৃদ্ধি পেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষা বাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে। আসন্ন বন্যার আগে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের গাফিলতি ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতিবছর তারা ভাঙনের শিকার হন। কোনো সাহায্য নয়, তারা ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চান।
সদর উপজেলার রহমান নগরের বাসিন্দা হাকিম বলেন, ‘বন্যার পানি বাড়ার সময় একবার ভাঙনে ফসলি জমিসহ বসতভিটা নদীতে গেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। চরের মানুষ আমরা সারা বছরই নদীভাঙনের শিকার হই।’
সুন্দরগঞ্জের কাশিম বাজারের বাসিন্দা রুমিনা বেগম বলেন, ‘গত এক মাসে তিস্তার পানি কমা-বাড়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলের জমিগুলো নদীতে পড়ে গেছে। বান আসলেই দুইবার বাড়িঘর সরানো লাগে। কেউ খবর নেয় না।’
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ার আশরাফ মিয়া বলেন, ‘নদীতে পানি কমা শুরু হয়েছে। নদীর পাড়গুলো ধপাস ধপাস করে ভেঙে নদীতে পড়ছে। কিছু করার নাই। আমাদের কষ্ট কি কেউ বুঝবে? নদীভাঙন বন্ধ হলে আমরা মুক্তি পেতাম।’
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। এতে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো আরও প্লাবিত হতে পারে। পানি হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।’


